১৬ জুলাই ২০১৫ - ০৫:৫৪
মিয়ানমারের দুই সেনা সদস্য বান্দরবানে উদ্ধার

বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুই সদস্যকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নেতৃত্বে যৌথবাহিনী।

আবনা ডেস্ক : বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুই সদস্যকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নেতৃত্বে যৌথবাহিনী। মঙ্গলবার বান্দরবান সীমান্তে মেইন পিলার ৬৭ থেকে ট্রাইজংশন পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় জঙ্গল থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওই দুজন সদস্যকে উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিজিবির উপ-মহাপরিচালক কর্নেল ফরিদ হাসান। তিনি বলেন, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী একটি গ্র“প (সন্ত্রাসী) সে দেশের ওই দুই সেনা সদস্যকে অপহরণ করে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে। মঙ্গলবার ওই এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনাকালে সন্ত্রাসী গ্র“পটি সেনা সদস্যদের ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কর্নেল ফরিদ হাসান বলেন, এদের মধ্যে একজন অসুস্থ থাকায় তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা দুজনই সুস্থ আছেন। আটকদের ব্যাপারটি মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশসহ (বিজিপি) সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ওই দুজনকে যত দ্রুত সম্ভব ফেরত নেয়ার জন্য বিজিপিকে বলা হয়েছে।
কর্নেল ফরিদ হাসান বলেন, মিয়ানমারের এ দুজন সেনা সদস্য কোনো কমিশন র‌্যাংকের নয়। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মতো হবে। তবে দুদেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই মিয়ানমারের এ দুজন সেনা সদস্যের বিস্তারিত পরিচয় জানানো যাচ্ছে না। দুএক দিনের মধ্যে কক্সবাজারের গন্দুম সীমান্ত দিয়ে ওই দুই সেনা সদস্যকে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী অথবা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কোনো ক্যাম্প নেই দাবি করে বিজিবি কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবেশী দেশের অনুরোধে এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিনিয়ত সীমান্ত এলাকায় বিজিবি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়াও সীমানা সুরক্ষিত রাখার জন্য বিজিবি দেশের অরক্ষিত এলাকাগুলোতে রুটিন মাফিক অপারেশন চালায়। চলতি বছর বান্দরবান সীমান্ত এলাকায় বিজিবি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে কয়েকটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ৪টি দল বলিপাড়া (থানচি) এলাকায় ৮ থেকে ১৮ ফেব্র“য়ারি, ১৫টি দল নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় ১২ থেকে ১৫ মে, তিনটি দল বলিপাড়া (থানচি) এলাকায় ২ থেকে ৬ জুন এবং ১৬টি দল, সেনাবাহিনীর ৫টি দল ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বান্দরবান (বলিপাড়া ও আলীকদম) এলাকায় ৫ থেকে ১৪ জুলাই অভিযান পরিচালনা করে।